TOP সোশ্যাল

সাধের গোঁফের সাধনায় ২৫ বছর চুম্বনহীন জীবন কাটিয়ে দিলেন কার্তিকবাবু

Loading...

‘গোঁফকে বলে তোমার আমার, গোঁফ কি কারও কেনা?’

‘গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, গোঁফ দিয়ে যায় চেনা৷’

না, সুকুমার রায় পড়েননি তিনি

‘গোঁফ চুরি’ কবিতার কথাও জানেন না, বছর ৫৫-র কার্তিক দে৷ তাঁর তেমন কোনও মাথার ‘ব্যামো’ও নেই৷ রয়েছে শুধুই শখ৷ যার জন্য বড় সাধের গোঁফ জোড়া নিয়ে কেউ কিছু বললেও, সে কথায় কোনও তাপ-উত্তাপ নেই তাঁর৷ বেজায় শান্ত কার্তিকবাবুর কথায়, ‘কে, কী বলল, তাতে কী এসে গেল! আমার শরীর, আমার শখ৷ আমার গোঁফ, আমার সাধ৷ তাতে কার কী? আমার সাফ কথা, এই গোঁফ নিয়েই আমায় ভালো লাগলে এসো, না লাগলে আসো৷ গোঁফের জন্য আমি কোনও আপোশে নেই৷ এই গোঁফ কি আজকের? এ আমার ২৫ বছরের সাধনা৷ আজ এর জন্য স্ত্রী-সংসার সব ছাড়তে পারি৷ কিন্ত্ত গোঁফকে কি-ছু-তে-ই ছাড়ব না৷’

কিন্ত্ত জীবনে এত ধরনের শখ থাকতে, হঠাত্ গোঁফ রাখা নিয়ে এমন শখ? প্রশ্ন শুনে, কার্তিকবাবুর গোঁফের ফাঁকে এক চিলতে হাসি, ‘হঠাত্ই বলতে পারেন৷ তখন সবে ছেলে হয়েছে৷ পাড়ার সেলুনে চুল-দাড়ি কাটতে গিয়ে, সেলুনের সুভাষ গোঁফটা একটু বড় রেখে বলল, ‘বেশ মানিয়েছে গো তোমাকে৷’ দেখলাম, সত্যিই তো! ব্যস, সেই যে গোঁফের প্রেমে পড়লাম, আর সেই প্রেম কাটিয়ে উঠতে পারলাম না৷ আজ বউকে যা সময় দিই, তার চেয়েও ঢেড় বেশি সময় দিই গোঁফকে৷ জানেন, কত সেবা-যত্ন করি?’

গোঁফের সেবা-যত্ন! কী রকম? ‘তার মানে! কারও প্রেমে পড়েছেন, আর তাকে যত্ন করবেন না! ভালোবাসবেন না! এ কী কথা! জানেন, প্রতিদিন স্নান করতে গিয়ে, গোঁফের জন্যই ৩০-৪০ মিনিট সময় যায়৷ সাবান-শ্যাম্পু-তেল-কন্ডিশনার দিয়ে, কত যত্ন করে ধীরে ধীরে সব পরিষ্কার করতে হয়৷ শুধু, শুধু কি আর এমন গোঁফ হয়! এই গোঁফ ঠিক রাখতে, প্রতিদিন খরচ ২০ টাকা৷ শুধু গোঁফের জন্যই, আমার তিন ধরনের চিরুনি রয়েছে৷ সরু-মাঝারি-বড় দাঁতের৷ তাতে চিরুনির ফাঁকগুলো আলাদা হয়৷ সুন্দর আঁচড়ানো যায়৷ আসলে এত যত্ন নিই কেন জানেন? এই গোঁফই আজ আমায় সব কিছু দিয়েছে৷’

‘সব কিছু দিয়েছে’ মানে? ‘কী দেয়নি! উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার, পাট্টাবগা গ্রামের লোক আমি৷ তিন ভাই, এক বোনের সংসারে, ছোট থেকে অভাব দেখেই বড় হয়েছি৷ ক্লাস টু পর্যন্ত পড়ে, লেখাপড়া ছেড়ে দিই৷ একটু বড় হতে, মাঠে চাষের কাজ করতাম৷ তার পর চালের ব্যবসা৷ চলল না৷ ক’টা গরু কিনে, খাটাল বানালাম, সেটাও জমল না৷ বাড়ি তৈরির মিস্ত্রির কাজ করলাম৷ কিন্ত্ত কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারিনি৷ শেষে একজনের সাহায্যে হাবরার একটা বার-এর গেটে দাঁড়ানোর কাজ পাই৷ ততদিনে বড় হচ্ছি, সঙ্গে গোঁফও৷ দেখতাম, অনেকেই চেয়ে চেয়ে দেখছেন৷ এই করতে করতেই, কাজের সুযোগ পাই কলকাতায়৷ হাজরা মোড়ের এক বার-এর গেটের ডিউটি৷ মালিকের দেখলাম আমায় পছন্দ তো হলই, সঙ্গে আমার গোঁফও৷ সে আজ ১২ বছর আগের কথা৷ সেই এক যুগ ধরে, আমি এই বার-এর গেটে৷ কত মানুষের সঙ্গে পরিচয়! কতজন ড্রিঙ্ক করে যাওয়ার সময়, জড়িয়ে ছবি তোলেন৷ বকশিস দেন৷ একজন তো একবার ৫০০ টাকা হাতে দিয়ে বলেছিলেন, ‘গোঁফের যত্ন নিও৷ এটা কিছুতেই নষ্ট করো না৷’ জানেন, এই গোঁফের জন্য আমার ছবি আজ আমেরিকা-ইংল্যান্ড-চিন-জাপান-অস্ট্রেলিয়া… সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গিয়েছে!’ কী করে! ‘সামনেই তো কালীঘাট মন্দির৷ দেশ-বিদেশের কত মানুষের আনাগোনা৷ পথে যেতে দেখলেই, তাঁরা আমার সঙ্গে ছবি তুলে নিয়ে যান৷ এই করেই… এই গোঁফের জন্য তো অভিনয়ের সুযোগও পেয়েছিলাম৷’

গোঁফের জন্য অভিনয়? ‘হ্যাঁ৷ বছর পাঁচেক আগে ধর্মতলার এক হোটেলের গেটে আমাকে ইউনিফর্ম পরে দাঁড়াতে হয়েছিল, শু্যটিং করতে৷ ছবিটার নাম ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’৷ জিত্ ছিলেন হিরো৷ আধ ঘণ্টার শু্যটিংয়ের জন্য, সেদিন আমায় ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল৷ আর একবার বাইপাসের ধারে, একটা মোবাইল কোম্পানির অ্যাডের জন্যও শু্যটিং করেছিলাম৷’

আপনি বীরাপ্পনের নাম শুনেছেন? ‘শুনব না! তবে উনি নামে আমার থেকে বড় হতে পারেন৷ কিন্ত্ত গোঁফে আমি ওনার থেকে বড়৷ আমার গোঁফ দেড় ফুট, মানে ১৮ ইঞ্চি৷’ অমিতাভ বচ্চনের ‘শরাবী’ ছবিটা দেখেছেন? ‘ওই ‘মুচে হো তো নাত্থুলাল জ্যাইসা হো’… ওই ডায়ালগটার কথা বলছেন তো? ছেলেপুলেরা ড্রিঙ্ক করে বেরনোর সময়,আমার গোঁফ দেখে মজা করে যখন এই ডায়ালগ দেয়, বেশ রাগ হয়৷ আরে! গোঁফ কি তাচ্ছিলের জিনিস নাকি! এমন মজা-মস্করা মানতে পারি না৷ এই নিয়েও কত কাণ্ড হয়েছে৷’

কেন! কী হয়েছে? ‘আরে! বাড়িতে বউ কম অশান্তি করেছে নাকি? আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি, গোঁফ-সমেত যদি আমায় ভালোবাসতে পারো, ভালোবাসো, নয়তো আমায় ছেড়ে দাও৷ আরে, এসেছি একা, যাব একা৷ কীসের অত চিন্তা! আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায়, কাউকে কিছুতেই হাত দিতে দেব না৷ যার জন্য ওদের সঙ্গে কোনও অনুষ্ঠান-বাড়িতেও যেতে চাই না৷ মার্কেটিংয়েও যাই না৷ জোর করে নিয়ে যায়৷ কিন্ত্ত গিয়ে দেখি উল্টো সিন৷ সকলে আমার সঙ্গেই ছবি তুলতে চায়! কী বলবেন! আসলে ওরা জানেই না খনার বচন, ‘গোছে ধান, গোঁফে মান৷’ বুঝলেন?’

আপনার বাড়িতে কে কে আছেন? ‘বউ, ছেলে, মা, দুই দাদা, তাদের ছেলেরা৷ একেবারে যৌথ পরিবার৷’ কিন্ত্ত মা তো একদিন মারা যাবেনই, তখন গোঁফ কাটবেন না? ‘না-না মাথা খারাপ! সে অনুমতি আগেই মায়ের থেকে নিয়ে রেখেছি৷ ২৫ বছর চুমুই তো খেলাম না৷’

ছবিঃ এইসময়

সুত্র ঃ এইসময়

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে, ‘প্রথম দর্শনে প্রেম’ নয় আসে শরীরী আকর্ষণ

১৮ বছর হর্ন দেননি, গাড়ি চালিয়ে নজির গড়লেন কলকাতার দীপক দাস

ফের যৌন নির্যাতনের ঘটনা। মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৫১জন ছাত্রী

বয়সে ছোট ছেলেকে বিয়ে করতে আগ্রহী ৯৭% ভারতীয় মেয়ে! বলছে সমীক্ষা

Loading...

Comments

comments