TOP নিউজ

সাংসদদের বিমান খরচ ১৩০ কোটি টাকা, এগিয়ে আবার বাংলা!

Loading...

লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা সকলেই ভিআইপি। আর সেই ভিআইপিদের জন্য বছরে ১৩০ কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ খরচ হয় বিমান ভাড়া বাবাদ।

মুখ্যমন্ত্রী চড়েন ইকনমি ক্লাসে। কিন্তু বাংলার সাসংদরা?

সাধারণ লাইফস্টাইলেই স্বচ্ছন্দ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমান সফরে তিনি ইকনমি ক্লাসই পছন্দ করেন। শুধু মুখে বলা নয়, কাজেও তিনি তাই করেন। অথচ তাঁর রাজ্যের সাংসদের নামই উঠে এল লজ্জার তালিকার শীর্ষে। না, তাঁর নিজের দলের নয়। দেশে বিমান ভাড়া বাবদ সব থেকে বেশি সরকারি অর্থ খরচ করেছেন সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত ভট্টাচার্য। তবে তিন নম্বরেই রয়েছেন মমতার দলের সাংসদ।

২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে লোকসভার সাংসদদের জন্য বিমান ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে ৯৫ কোটি ৭০ লাখ ১ হাজার ৮৩০ টাকা। আর রাজ্যসভার সাংসদদের জন্য বিমানের টিকিটে খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৬২ টাকা। সব মিলিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা সকলেই ভিআইপি। আর সেই ভিআইপিদের জন্য বছরে ১৩০ কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ খরচ হয় বিমান ভাড়া বাবদ।

শুধু মোট খরচেই চমকে যাবেন না, তথ্য জানার অধিকার আইনে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে তাতে বেশির ভাগ সাংসদই বিজনেস ক্লাস কিংবা ফার্স্ট ক্লাস টিকিটে বিমান ভ্রমণ করেন।

সাধারণ জীবনযাপনের জন্য বামপন্থীদের সুনাম রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের হলেও সত্যি যে দেশের সব থেকে দামি টিকিটে বিমান ভ্রমণের তালিকায় রয়েছেন দুই বাম সাংসদ। এক নম্বরে সিপিএমের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দু’নম্বরে সিপিআই সাংসদ ডি রাজা। আর তিন নম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।

নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাভেল অ্যালাউয়েন্স ছাড়াও বিমান ভাড়ার এক চতুর্থাংশ ডিএ হিসেবে চাইতে পারেন সাংসদরা। আরটিই রিপোর্টে জানা গিয়েছে, গত আর্থিক বছরে রাজ্যসভার সাংসদরা গড়ে বছরে ১০ লাখ টাকা করে বিমান ভাড়ার বিল জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সারা বছরে খরচ দাবি করেছেন ৬৯ লাখ ২৪ হাজার ৩৩৫ টাকা। যার অর্থ প্রতি মাসে খরচ হয়েছে গড়ে ৬ লাখ টাকা। ঋতব্রত এ ছাড়াও ডিএ বাবদ দাবি করেছেন প্রায় ১৪ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য ইতিমধ্যেই ঋতব্রতকে সাসপেন্ড করেছে সিপিএম। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় তদন্ত চলছে।

1-4 সাংসদদের বিমান খরচ ১৩০ কোটি টাকা, এগিয়ে আবার বাংলা!

শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দামি ঘড়ি পরা এই ছবি নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। — ফাইল চিত্র

দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিআই সাংসদ ডি রাজা দিল্লি-চেন্নাই বিমান ভাড়া হিসেবে দাবি করেছেন ৬৫ হাজার ৮৪১ টাকা। এর উপরে আবার ডিএ চাপিয়ে তিনি একবার চেন্নাই থেকে দিল্লি আসার খরচ দাবি করেছেন ৮২ হাজার ৩০১ টাকা। সব মিলিয়ে সারা বছরে বিল করেছেন ৬৫ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ টাকা। এ ছাড়াও ওই তালিকায় অনেক বাম সাংসদের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় একবার কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার টিকিটের খরচ দেখিয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩৬ টাকা। এর উপরে ডিএ চাপিয়ে বিল করেছেন ৭০ হাজার ১৭০ টাকা। সারা বছরে মোট বিল করেছেন ৬১ লাখ ৭২ হাজার ২৭১ টাকা। কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যর নামও রয়েছে বেশি খরচের তালিকায়।

এ ছাড়াও ওই তালিকার উপর দিকে রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ অস্কার ফার্নান্ডেজ, ডিএমকের তিরুচি সিওয়া। বিজেপির সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য খরচের তালিকায় রয়েছেন আর এক বাঙালি। আন্দামান ও নিকোবরের সাংসদ বিষ্ণুপদ রায় বিল করেছেন ৪১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ টাকা।

আরও পড়ুন:

মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অশ্লীল পোস্ট ফেসবুকে, ফের বিতর্কে ‘Bankura Memes’

এতদিন ধরে বাবা ‘ধর্ষণ’ করেছে, ১২ বছরে এসে বুঝল মেয়ে! ৭ বছর ধরে সে ধর্ষণের শিকার!

Loading...

Comments

comments