TOP খেলা

রণজি ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তুললেন এই পেসার

Loading...

রণজি ফাইনাল কোন দলের দিকে ঝুঁকতে চলেছে? সে প্রশ্ন নিয়ে সবাই যখন আলোচনায় ব্যস্ত তখনই তার থেকে সকলের নজর ঘুরিয়ে দিলেন পঁচিশের রজনীশ গুরবানি। বিদর্ভের ডান হাতি পেসার হ্যাটট্রিক করে দিল্লিকে চাপে ফেলার পাশাপাশি ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে কল্যাণসুন্দরমের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেললেন। ৪৫ বছর আগে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ুর হয়ে রণজি ফাইনালে খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করেন কল্যাণসুন্দরম। তার রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ছুঁতে পারেন নি। গুরবানি সেটাই করে ফেললেন। আর হ্যাটট্রিক শুধু নয়, ৫৯ রানে ছ’উইকেট নিয়ে দিল্লি শিবিরে ধস নামালেন। ২৯৫ রানে দিল্লি গুটিয়ে যাওয়ার পর বিদর্ভ ব্যাট করতে নেমে নিজেদের প্রায় ধরে রেখেছে। দিনের শেষে তাঁদের রান ৬৭ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৬।

ফাইনালে প্রথমদিনের শেষে ধ্রুব শোরে ১২৩ রানে অপরাজিত থেকে দিল্লিকে স্বস্তি দিয়েছিলেন। তাঁর ইনিংসের উপর ভর করে গম্ভীররা রানের পাহাড় তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন। এদিনও শোরে টেলএন্ডারদের নিয়ে দলকে টানছিলেন। কিন্তু গুরবানি বল হাতে নিতেই লড়াই শেষ। দিল্লি তখন ৬ উইকেটে ২৯০। নিজের ২৪ নম্বর ওভার বল করতে আসেন গুরবানি। ওভারের পঞ্চম বলে তিনি ফেরান বিকাশ মিশ্রকে। অফ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে থেকে আসা বল বিকাশের উইকেট ভেঙে দেয়। এরপর খেলতে আসেন সাইনি। প্রথম বলে তাঁর উইকেটও নড়ে যায়। এরপর দিল্লির ৮ উইকেটে ২৯৫ রানের মাথায় শোরের বিরুদ্ধে বল হাতে গুরবানি। ১৪৫ রানে তিনি তখন ব্যাট করছেন। প্রথম বলে উইকেট পেলে হ্যাটট্রিক হবে। কারণ আগের ওভারের শেষ দুই বলে দু’জনকে ফিরিয়েছেন। এবং সেটাই হল। শোরে পারলেন না। তাঁকেও বোল্ড করলেন গুরবানি। এবং হ্যাটট্রিকও। এখানেই শেষ নয়। এরপর কুলবন্তকে আউট করে দিল্লির ইনিংস শেষ করলেন। শেষপর্যন্ত গুরবানির বোলিং গড় দাঁড়ায় ২৪.৪-৮-৫৯-৬। বিদর্ভকে একার কাঁধে নিয়ে তিনি ছুটছেন কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। কেরল, কর্নাটকের পর দিল্লি। গুরবানি কিন্তু ছুটে চলেছেন। সামনে যারা আসছে, তারা খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে।

নিজের এমন সাফল্যের দিনে সব কৃতিত্ব গুরবানি দিচ্ছেন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত এবং বোলিং কোচ সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বলছেন তাঁদের জন্য এই দৌড় সম্ভব হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশিদিন খেলছেন না। দেড় বছরও হয়নি তিনি বিদর্ভের হয়ে বল হাতে ছুটছেন। এই মুহূর্তে ৯টি ম্যাচে পেয়েছন ৪৪ উইকেট। স্টাইক রেট তিনের নিচে। এমন পারফরম্যান্স করা বোলারের গোপন অস্ত্র কি? গুরবানি বলছেন, ”কোচেরা আমাকে যা করতে বলেন, আমি তাই করি। পণ্ডিত স্যার প্র‌্যাকটিসে একটা জায়গায় টানা বল করতে বলেন। অফস্ট্যাপ ধরে বল করতে করতে নিজের লাইন-লেংথ ভাল হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে ফিটনেস ট্রেনিং তো আছেই।” গুরবানি সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য মিলল বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রশান্ত বৈদ্যের কাছে। গুরবানি আউটসুইং বোলার। ক্রিকেট মাঠে কোনও বোলার সম্পর্কে আলাদা করে বলতে গিয়ে কেউ কেউ বলে ফেলেন যে ওর হাত থেকে বল বেরোলেই সুইং করে। গুরবানিও তাই। এবার রণজি শুরু হওয়ার আগে ইনসুইংও রপ্ত করেছেন। অফস্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে থেকে বল ভিতরে আসে। সেভাবেই এদিন হ্যাটট্রিকের প্রথম উইকেট তিনি তুলে নিলেন। তাঁর রাজ্যের অনেকে তাঁকে জাতীয় দলের অন্যতম সেরা পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে তুলনা করেন। নিজের রাজ্যে উমেশ থাকলেও সেই তকমা তিনি পাননি। অঙ্ক বলছে, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত, এই পথে গুরবানির পকেটে এখনও পর্যন্ত জমা পড়েছে বাইশ উইকেট। সঙ্গে হ্যাটট্রিক। এরপর তাঁকে নিয়ে নতুন কিছু বলার আছে কি?

সুত্র ঃ সংবাদ প্রতিদিন

আরও পড়ুন

সুস্থ থাকতে সপ্তাহে কতবার বীর্যপাত করা উচিত? জেনে নিন

নতুন বছরে আপনার যৌন জীবন আরও মধুর করতে এই ছোটখাটো বিষয়গুলি মেনে চলুন

এবারে পাহাড়ে বেড়াতে গেলে ব্রিটিশ আমলের ল্যান্ডরোভারে নিখরচায় সাফারির সুযোগ পাবেন

নতুন বছরে রণবীর-দীপিকা কোথায় ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন জেনে নিন!

Loading...

Comments

comments