লেখালেখি

ওলা শেয়ার

Loading...

অয়ন আর সাবিনা। আজ দুপুর পর্যন্ত এদের চিনতাম না। চেনা হয়ে গেল নেহাত ঘটনাচক্রেই। ওলা শেয়ারে উঠতে হল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। নয়ত লেনিন সরণির মুখ থেকে পার্কস্ট্রিট আমি হেঁটেই যাই। ওরা আমার সহযাত্রী। চালকের পাশের আসনে বসে ছিলাম। আগের লেখাগুলোয় বারবার বলেছি এই বাইশ-তেইশদের জোড়ায় দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। কাঁচা বয়সের পাকা প্রেম বেশ লাগে। ওলা তখন এসইউসি অফিসের সামনে গিয়ে বডি ফেলেছে। জিপিএস বলছে সামনে অন্তহীন যানযট। কী করি? পিছনে বেশি তাকানো সহবত নয়। ভিন রাজ্যের ওলা চালক আর যাই হোক গল্পের সঙ্গী নন। স্বস্তি দিল এক বন্ধু। তাঁর একটা আইনি বিষয়ে গোলমাল আছে। কোনও ভাল আইনজীবী চেনা আছে কিনা জানতেই ফোন করেছিল। দুএক জন চেনা লোকের কথা এবং কোথায় বসেন জানিয়ে ফোন রেখেছি। দুধ সাদা ওলা তখনও ভিজছে। দাদা একটু শুনবেন। সাবিনা আমায় ডাকল। বললাম হ্যাঁ বলুন। ওরা নিজেদের কষ্টের কথা জানলো। দুই বাড়ি থেকেই সম্পর্ক মানছে না। সাবিনার বিয়ের চেষ্টা চলছে। অয়নকে বিদেশে পাঠনোর। তাই ওরা গোপনেই এক হতে চায়। আইন মেনে। এমনি বিয়ে আর দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ের নিয়ম আলাদা না এক? ওরা জানে না। কতদিন লাগবে সবটা শেষ করতে? তাড়াতাড়ি করতে হবে। ওদের হাতে সময় নেই। তাই দিলাম দু-একটা নম্বর। সাবিনা বলল, দাদা আপনি নিজে একটু কথা বলে দিন না। তাও হল। অচেনা লোকেদের সাহায্য করা ঠিক কি না তা নিয়ে তর্ক আছে কিন্ত বয়সে ছোট ছেলে আর মেয়েটার দৃঢ়তা দেখে আর কিছুই মাথায় এল না। এরই মধ্যে এসে গিয়েছে পার্কস্ট্রিট। নম্বর দেওয়া শেষ। এশিয়াটিক সোসাইটির সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম মুহূর্তে বৃষ্টি স্রোতে হারিয়ে গেল ওলা। কবে অয়ন-সাবিনাদের সমস্যা গুলোও এভাবেই মিলিয়ে যাবে, আদৌও যাবে কি?

Loading...

Comments

comments