TOP নিউজ

মোবাইল চুরির ডিপ্লোমা! সিলেবাস- মোবাইল চুরি, পকেটমারি, স্ন্যাচিং! কোর্স ফি মাত্র ১৬ হাজার

Loading...

“আমরা সবাই প্রশিক্ষিত।” শুরু করে সুরজ। জানায় এলাইনে কিছু স্কলারের নাম। ভিকি পাসওয়ান, কার্তিক রাজভর, ছোটু সিং। রয়েছে আরও নাম।

তা কোথায় হয় ক্নাস? কীভাবে চলে মোবাইল চুরির আপারেশন?

একটু দূরেই ঝাড়খন্ড-বাংলা সীমান্ত। তার গা ঘেঁষে জামতাড়া শহর। সেখানেই চলে মোবাইল চুরির পাঠশালা। কোর্স ফি ১৬ হাজার টাকা। সিলেবাসে আছে মোবাইল চুরি, পকেটমারি, স্ন্যাচিং। সেমেস্টার ধরে শেখানো হয় সেসব। স্যার নয়, শিক্ষকদের এখানে ডাকা হয় “মিস্ত্রি” নামে। পড়ুয়ারা এখানে “টেনিয়া”। শিক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্নাসের কৃতীদের ভিনরাজ্যে নিয়ে যায় “ওস্তাদ”রা। সেখানে হয় প্র্যাকটিক্যাল। আর দেওয়া হয় টিম ওয়ার্কের পাঠ।

কেমন সে পাঠ?

সুরজ বোঝায়, বাসে টার্গেটে থাকে অন্যমনস্ক মানুষ। ভিড় বাসে কিছু মানুষ মহিলাদের গা ঘেষে দাঁড়াতে ভালোবাসেন। মুখ দেখে বুঝে নিতে হয়। বোঝা যায় তাঁর মানসিকতায় যৌনতা ঢুকে গেছে। ব্যাস, টার্গেট রেডি।  টার্গেটের কোড নাম “মুরগা”।

প্রতিটি তাজা আপডেট পেতে খবরের ঝুলি’র ফেসবুক পেজ লাইক করুন- Khoborer Jhuli- খবরের ঝুলি

বাসে মোবাইল চুরির সময় কাজ করে তিনজনের টিম । একজন ওই লোকটিকে ধাক্কা দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন তাঁর রাগ হয়। লোকটির জেদ বাড়তে থাকে। যখন উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, সেই সময়েই সাফ করে দেওয়া হয় পকেট। “কাজ” সারে লোকটির পিছনে বা উল্টো দিকে থাকা অন্যজন। সফল হলে বলা হয় “হালাল”। পুরো গেম চলে মনস্তত্ত্বের জটিল হিসেব কষে। যে এই হিসেব যত নিখুঁত ভাবে কষতে পারে, সে ততবড় চোর। মোবাইল তুলে নেওয়ার পর তা পাস করা হয় তৃতীয় জনকে।  সে তড়িঘড়ি পরের স্ট্যান্ডে নেমে যায়। বাকি দু’জন নামে সময় বুঝে ।

একই ভাবে লক্ষ্য রাখা হয় বাজারেও , কোন মানুষ বেশি দরাদরি করতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন। ঝগড়া করছেন।  নজর রাখা হয় তাঁদের উপর।

সুরজ  বলে, “মানুষ রাগলেই সুক্ষ ভাবনাগুলো লোপ পায়, চুরি করতে সুবিধে হয়।”

প্রতিটি তাজা আপডেট পেতে খবরের ঝুলি’র ফেসবুক পেজ লাইক করুন- Khoborer Jhuli- খবরের ঝুলি

ওস্তাদরা চোরের দলকে এরাজ্য থেকে নিয়ে যায় অন্য রাজ্যে । মুলত ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহারে যায় এরাজ্যের ট্রেনিংপ্রাপ্ত চোর। অন্যরাজ্যের চোর আসে এই রাজ্যে। চিনাকুড়ির মত, জামতাড়া, ধানবাদে স্টক পয়েন্ট আছে। ভিনরাজ্যের চুরির মোবাইল বিক্রি হয় এরাজ্যে, এরাজ্যের চুরির মোবাইল চলে যায় ভিন রাজ্যে। এমন কি পাল্টে দেওয়া হয় IMEI নম্বর। ফলে চুরির মোবাইলের হদিশ মেলে না।

শুধু এ রাজ্যে নয়, এদের জাল ছড়িয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, এমন কি আন্তর্জাতিক স্তরেও। প্রয়োজনে তাদের ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয় ভিন রাজ্যে। চুরির ওয়ার্কশপ করাতে।

গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক মোবাইল পাচার চক্রের তিন সাগরেদকে পাকড়াও করেছিল কুলটি থানার পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন মালদার দুস্কৃতি ছিল। যারা বাংলাদেশে চুরির মোবাইল পাচার করত। তখনই পুলিশের নজরে আসে খনি অঞ্চলের ছোট্ট শহর চিনাকুড়ি। জেরা করে জানা যায়, চিনাকুড়ি এলাকা থেকেই মোবাইল কিনে তারা পাচার করত বাংলাদেশে। যদিও পুলিশের নজরে আসার আগেই মোবাইল দুনিয়ায় চিনাকুড়ি হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক আখড়া।
মোবাইল চুরির ডেন!

সবথেকে জনপ্রিয় খবরগুলো:

সাবধান! ভারতীয় মহিলারাই কিন্তু বর পেটানোয় এই বিশ্বে তিন নম্বরে!

চিনকে আটকাতে এবার সেনাবাহিনীকে চিনা ভাষা শেখাবে বোলপুরের বিশ্বভারতী

ফেসবুক এবার কার্যত বিপ্লব আনতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়! আসছে নয়া ফিচার…

কিভাবে জানবেন আপনার ইমেল আইডি হ্যাক করা হয়েছে কিনা?

ফেসবুকে গান চুরির অভিযোগ করা হলো রূপম ইসলামের বিরুদ্ধে

Loading...

Comments

comments