TOP লাইফস্টাইল

এই আট ব্যক্তির সঙ্গে কখনওই তর্ক করবেন না!

Loading...

ভারতীয় সনাতন ধর্মের কর্তব্য ও অকর্তব্য বিধান করে স্মৃতিশাস্ত্রগুলি। পুরাণ ও অন্যান্য শাস্ত্র থেকে উদাহরণ চয়ন করতে করতে স্মৃতিশাস্ত্রকাররা কয়েক হাজার বছরের অভিজ্ঞতাকে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। পরবর্তী কালে সেই সব সংকলনের সঙ্গে সংযোজিত হয়েছে আরও বিবিধ বিধান। এর মধ্যে কোনও কোনওটি হয়তো আজকের দিনে আজব বলে মনে হতে পারে, কোনওটিকে মনে হতে পারে মানবিক অগ্রগতির পরিপন্থী। সেই মনে হওয়া থেকেই প্রয়োজন পড়ে সংস্কারের। বিদ্যাসাগর বা রামমোহনের মতো মানুষ এগিয়ে আসেন। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, তাঁরাও স্মৃতিশাস্ত্রকেই সংস্কার করতে চেয়েছেন। বিধবা বিবাহ বা সতীদাহ নিবারণের পিছনেও ছিল শাস্ত্রীয় অনুমোদনের খোঁজ।

স্মৃতিশাস্ত্রগুলির মধ্যে প্রধানতম জ্ঞান করা হয় ‘মনুস্মৃতি’-কে। বৈবস্বত মনু বিরচিত এই বিধি সংকলনের প্রভূত সংযোজন ও বিয়োজন ঘটেছে হাজার হাজার বছরে। এই শাস্ত্র থেকেই উদ্ভূত হয়েছে হিন্দু আইন। আবার এই স্মৃতিশাস্ত্রই বিধান দিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কর্তব্য-অকর্তব্য বিষয়ে। মনে রাখতে হবে, এই গ্রন্থ সহস্রাব্দপ্রাচীন। এতে জমে রয়েছে সনাতন ভারতের হাজার বছরের অভিজ্ঞতা।

দৈনন্দিন কর্তব্য-অকর্তব্য বর্ণনা করতে গিয়ে ‘মনুস্মৃতি’ জানায় তর্ক করার বিপদ সম্পর্কে। অহেতুক তর্কে অংশগ্রহণরত উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানায় এই প্রাচীন গ্রন্থ। ‘মনুস্মৃতি’ মতে, অহেতুক তর্কে সামাজিক শান্তি যেমন বিঘ্নিত হয়, তেমনই আত্মাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করা সাব্যস্ত নয়, তার একটি তালিকে দেয় এই গ্রন্থ। সেই তালিকা থেকে ৮টি চরিত্রকে রাখা হল এখানে।

১. পুরোহিতের সঙ্গে তর্ক করা অনুচিত। বিশেষ করে যিনি আপনার গৃহে পূজা করতে এসেছেন। এতে তাঁদের মনঃসংযোগ ব্যাহত হয়, শেষ পর্যন্ত পূজাই ব্যাহত হয়।

২. গুরু বা শিক্ষকের সঙ্গে তর্কে কোনও ফল লাভ হয় না। শিক্ষকের কাজ জ্ঞান দান করা। শিক্ষার্থী সেই জ্ঞানকে বিনা বিচারে গ্রহণ করবে এমন নয়। কিন্তু শিক্ষাদানের কালে শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক শিক্ষাকেই বিব্রত করে।

৩. গৃহে আগত অতিথির সঙ্গে তর্ক করা ঠিক নয়। প্রাচীন ভারতে অতিথিকে দেবতাজ্ঞান করা হত। তাছাড়া, অতিথি ক্ষণিকের। তিনি যতটুকু সময় আপনার গৃহে আতিথ্য স্বীকার করছেন, সেই সময়টুকু তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাটাই শ্রেয়।

৪. মা সর্বদাই তর্কের ঊর্ধ্বে। তিনিই প্রথম গুরু, তিনিই জীবনদাত্রী। তাঁর সঙ্গে তর্ক করা মানে নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে তর্ক করা।

৫. একই কথা প্রযোজ্য পিতার ক্ষেত্রেও। তিনও আদিগুরু। জনক। তাঁর সঙ্গে তর্ক করলে নিজেকেই অপমান করা হয়।

৬. একই ভাবে পুত্র বা কন্যার সঙ্গে তর্কও অর্থহীন। যদি তেমন পরিস্থিতি আসে, যেখানে সন্তানের সঙ্গে তর্ক অনিবার্য, সেখানে চুপ করে যাওয়াই শ্রেয়। কারণ এই পরিস্থিতির স্রষ্টা আপনিই। আপনার শিক্ষার ত্রুটিই সন্তানকে বৃথা তার্কিক করে তুলেছে।

৭. স্ত্রীও তর্কের ঊর্ধ্বে। কারণ তিনি একাধারে জননী, শিক্ষিকা ও সহচরী। তিনি আপানার জীবেনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। তাঁর সঙ্গে বৃথা তর্কে জড়িয়ে পড়া মানে নিজের জীবনকেই অর্থহীন প্রমাণ করা।

৮. পরিচারকের সঙ্গে তর্কও বিধেয় নয়। তিনি তাঁর শ্রম দিয়ে আপনার সেবা করে চলেছেন। আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের অনেকটাই তাঁর উপরে নির্ভরশীল। তাঁকে তর্কে জড়ানো মানে নিজেরই স্বাচ্ছন্দ্যকে বিঘ্নিত করা।

আরও পড়ুন:

গার্লফ্রেন্ড’কে ভয় দেখাতেই হাতে ‘নীল তিমি’র জুজু কলকাতার এই ছাত্রের!

জলের দরে ডেটা, এবার মাত্র ৫ টাকায় পাবেন ৪জিবি ডেটা!

Loading...

Comments

comments