TOP নিউজ

শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছেন মমতা! উঠল প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

Loading...

এক লাফে ১৫ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি। হাততালি পাওয়ার মতোই ঘোষণা। নজরুল মঞ্চে সরাকারি কর্মচারীদের হাততালিও পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ডিএ-র সঙ্গে যা পেয়েছেন তা হজম করতে পারছেন না অনেকেই। এক রাজ্য সরকারি কর্মীর বক্তব্য, ‘‘আগামী জানুয়ারি মাসে নতুন ডিএ কার্যকর হবে। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন ডিএ ঘোষণা করে দিলে আবার পিছিয়েই পড়ব আমরা। সুতরাং আবার আমাদের ‘ঘেউ ঘেউ’ করতে হবে।’’

বৃহস্পতিবার ডিএ ঘোষণার আগে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন মনে করেছে বিরোধীরা। সেটা মনে করছে তৃণমূল কর্মী সংগঠনের অনেক সদস্যই। তাঁদেরই একজন বললেন, ‘‘ডিএ কিংবা বেতন সবটাই কর্মীদের প্রাপ্য। এটা কোনও দয়ার দান নয়। নায্য পাওনা চাওয়ার জন্য আমরা কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করি বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আমাদের নেত্রী হলেও এটা খুবই অসম্মানজনক।’’

এই নিয়ে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে বিজেপির সরকারি কর্মচারি সংগঠন। তাঁর ইতিমধ্যেই আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল জানিয়েছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ করছি আমরা। কর্মীদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁকে এর জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। আজই চিঠি পাঠান হচ্ছে। এর পরে আমরা আদালতে যাব সরকারি কর্মচারিদের সম্মান আদায়ের জন্য।’’

নিজের বক্তব্যে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী বিশেষত আগের বাম সরকারকেই ‘ঘেউ ঘেউ’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রচণ্ড আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও এটুকু ব্যবস্থা করতে পেরেছি। মিউ মিউ, ঘেউ ঘেউ করে লাভ নেই। যখন নিজের সরকার ছিল, তখন কী করছিলেন!’’ কিন্তু এর পরেই তাঁর লক্ষ্য বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে কাউকে বলতে হয় না। আমাকে চাপ দিয়ে লাভ নেই। যেটা করতে পারি, নিজে করি। যেটা করতে পারি না, করি না।’

কলকাতা হাইকোর্টে ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে বলেছেন, মহার্ঘ ভাতা দীর্ঘদিন পেয়ে আসছেন সরকারি কর্মীরা। তাঁরা এই ভাতা পাওযার আশা করে থাকেন। সরকারি কর্মীদেরই একাংশ এই মামলা করেছেন। মামলাকারীদের উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ‘ঘেউ ঘেউ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে দাবি বিরোধীদের।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সরকারি কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পান। কারও দয়ায় নয়। সুতরাং, নিজেদের দাবিতে তাঁরা সরব হতেই পারেন। দাবি মেটাতে না পারাটা সরকারের ব্যর্থতা। তাই বলে তাদের পশুর সঙ্গে তুলনা করাটা অনুচিত। মুখ্যমন্ত্রী নিজের রুচির পরিচয় দিয়েছেন।’’ এখানেই না থেমে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ‘বেতন নেবেন না, ডিএ নেবেন’ বলে হুমকিও দিয়েছেন নজরুল মঞ্চে। ওই পদে বসে এই ভাষা মানায় না। তিনি আসলে সরকারি কর্মীদের নিজের দলের কর্মী মনে করেন। আমরা দলের কর্মীদেরও সম্মান করি। তৃণমূলে সেই কালচারটাই নেই।’’

শুধু বিজেপি নয়, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘‘ঘেউ ঘেউ করবেন না বলে শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের চূড়ান্ত অসম্মান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।’’

অন্য দিকে, আইএনটিইউসি অনুমোদিত কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ এই বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ দিন রাজ্য জুড়ে ধিক্কার কর্মসূচি পালন করে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

আরও পড়ুন:

গার্লফ্রেন্ড’কে ভয় দেখাতেই হাতে ‘নীল তিমি’র জুজু কলকাতার এই ছাত্রের!

জলের দরে ডেটা, এবার মাত্র ৫ টাকায় পাবেন ৪জিবি ডেটা!

Loading...

Comments

comments