TOP সোশ্যাল

প্রতিবাদের নতুন ভাষা, উন্মুক্ত বক্ষে কাটা তরমুজ নিয়ে প্রতিবাদে সামিল মেয়েরা

Loading...

নারীর শরীর শুধুই কী ভোগের বস্তু ? নারীর আপন কোনো সত্বা বলে কি কিছু নেই ? নারী কী তার আপন রুচিতে  মনের ইচ্ছায় পোশাক পরিধান করতে পারবে না? আজকের একবিংশ শতাব্দীতেও নারীদের পোশাক ,নারীদের দেহ নিয়ে পুরুষের মনোভাব যে একটুকুও বদলায় নি তা আমরা বারবার দেখে এসেছি।

তবে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের মানুষের মনোভাবই যদি নারী ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে না থেকে বারবার তাদের অধিকারের ক্ষেত্রকে সীমিত করতে থাকে তাহলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যে এই সোশ্যাল মিডিয়ায় যুগে ঘটবেই তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।আর এইরকমই এক অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়েছে কেরালার স্বাধীনচেতা নারীরা।

watermelon-protest_830x450_e4tzcy প্রতিবাদের নতুন ভাষা, উন্মুক্ত বক্ষে কাটা তরমুজ নিয়ে প্রতিবাদে সামিল মেয়েরা

কেরালার এক প্রশিক্ষণ  কলেজ ফারুক ট্রেনিং কলেজ যা কোজিকড়ে অবস্থিত তার সমাজ বিজ্ঞানের এক প্রফেসর তার কলেজের পড়ুয়া মেয়েদের প্রতি এক তীব্র অপমানজনক মন্তব্য করেছেন।তিনি বলেছেন,”তার কলেজের মুসলিম মেয়েরা হিজাবে নিজেদের ঠিক ভাবে আবৃত না রেখে তাদের বুককে উন্মুক্ত করে রাখে এমনভাবে যা দেখতে কাটা তরমুজের মতো লাগে”।এইরকম তীব্র অপমানজনক মন্তব্য যা তিনি তিন মাস আগে কলেজের ক্যাম্পাসে করেছিলেন তা কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

তিনি আরও মন্তব্য করেছেন,”আমার কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৮০%ই মেয়ে এবং  তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম ।যদিও এইসব মেয়েরা হিজাব পরে তবুও তারা তাদের বক্ষদেশকে এমনভাবে উন্মুক্ত করে  যেতরমুজ কেটে আমরা যেমন বুঝি সেই তরমুজের ভিতরটা লাল কি না, তেমনি বুক দেখে মেয়ের মনের অবস্থা বোঝা যায়।”

keralateacher-sexistremarks-watermelonprotest_ddmuwm প্রতিবাদের নতুন ভাষা, উন্মুক্ত বক্ষে কাটা তরমুজ নিয়ে প্রতিবাদে সামিল মেয়েরা

তার এইরূপ অপমানজনক কথা বলার ভিডিও শেয়ার হওয়ার পর থেকেই কেরালার অনেক মেয়েরা উন্মুক্ত বক্ষে কাটা তরমুজের ছবি  ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে থাকে। তাদের এইরূপ অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়  অনেকেই।তারা তাদের প্রতিবাদ অভিযান হ্যাশট্যাগ  ‘Maaruthurakkal samaram’, নামে শুরু করে যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ,”বক্ষ উন্মুক্ত করার জন্য ছিঁড়ে ফেল”।কিন্তু যখন তিরুবানান্তপুরুমের একজন নারীবাদী  প্রতিবাদী দিয়া সানা তার বন্ধুর দুটি কাটা তরমুজে ঢাকা চিত্র ফেসবুকে আপলোড করে তখন  অশ্লীলতার জন্য ফেসবুক কতৃপক্ষ এই ছবি সরিয়ে দেয়।এবং তার নিজের ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহারেও বাধানিষেধ আরোপ করা হয়।কিন্তু তিনি বলেন,”এটাই আমার প্রতিবাদের ভাষা।যদি কেউ নারীর পোশাক বা শরীর নিয়ে ভোগবাদী মন্তব্য করে তাহলে আমি এইভাবেই গর্জে উঠবো।

নারীর নিজের পছন্দ ও নিজের পোশাক পরার সম্পূর্ন স্বাধীনতা আছে ।পুরুষ শাসিত কামার্ত এই সমাজের নারীর বক্ষের প্রতি যে লোভ বা লালসা সহজাত তা তাদের এইরূপ মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়।আর তাই কোনো নারী যদি তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াই বা কোনো মডেল যদি তার শরীরের প্রদর্শন করে কোনো ম্যাগাজিনে তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। অনেক লোকের কাছে আমার বক্ষ বা শরীর আকর্ষণীয়  মনে হতেই পারে, কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে সে আমার  শরীরের উপর তাদের  স্পর্শের বা অন্য কিছু করার অধিকার জন্মাবে।

যদিও কলেজের প্রিন্সিপাল এই বিষয়ে বলেছেন এইরূপ মন্তব্য কলেজের ভিতরে ঘটে নি ,ঘটেছে কলেজের বাইরে কাউন্সিলিংয়ের সময়।আর এই ঘটনাটি তিন মাস পুরানো ঘটনা বলে তিনি ঘটনাটিকে লঘু করে দেখাতে চেয়েছেন।আর তাই বর্তমানের প্রতিবাদের কোনো মানে হয় না বলেই তিনি মনে করেন।কিন্তু নারীর স্বাধীনতা যে স্বাধীনচেতা মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফলেই সম্ভব ও এইকাজে যে বুদ্ধিজীবী সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে তা আমাদের সবাইকেই বুঝতে হবে।

 

Loading...

Comments

comments