TOP নিউজ

এবার বাংলায় স্কুলে মিড-ডে মিলেও সর্ষে ভাপা ইলিশ!

Loading...

খিচুড়ি, সেদ্ধ ডিম নয়তো সয়াবিনের তরকারি। সেখানে মিড-ডে মিলের পাতে এ বার ইলিশ, আপ্লুত পড়ুয়ারা।

কোনও কোন দিন সেদ্ধ ডিমের বদলে ডিমের ঝোল অথবা সবজির ঘ্যাঁট। মিড-ডে মিলের একঘেয়ে এই মেনুতেই অভ্যস্ত সকলে। এ দিন সেখানে মেঘ না চাইতে জল! থুরি, পোনা না চাইতেই ইলিশ।

পাতে এক টুকরো ইলিশ দেখে আনন্দের শেষ ছিল না দিঘার মির্জাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী চুমকি দে, গোবিন্দ শিট, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র দীপাংশু দে সবাই যেন আনন্দে আত্মহারা। ওদেরই একজন বলল, ‘‘আজ মনে হল যেন ভোজ বাড়ির খাওয়া! মাঝে মধ্যে এমন হলে বেশ ভালই হয়!’’

ছেলেমেয়েদের আনন্দ দেখে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক শান্তনু কুণ্ডু বললেন, ‘‘মিড ডে মিলে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হয়। বাজারে এখন সস্তায় ভাল ইলিশ মিলছে। তাই পড়ুয়াদের পাতে ইলিশ দেওয়া সম্ভব হল।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘স্কুলের শিক্ষকেরা সবাই মিলে ঠিক করি, এক দিন ইলিশ খাওয়ানো হলে মন্দ হয় না। মিড ডে মিলের বরাদ্দ অর্থের সঙ্গে স্কুলের সব শিক্ষকরাও নিজেদের সামর্থ মতো টাকা দিয়েছেন। সবাই মিলে পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই এই আয়োজন।’’

মিড ডে মিলের পাতে যে ইলিশ পড়বে, সেই খবর এ দিন সকাল থেকেই পৌঁছে গিয়েছিল স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে। দুপুর হতেই হইচই শুরু হয়ে যায়। পাতে ইলিশ পড়তেই শুরু হয় কবজি ডুবিয়ে খাওয়া। ওই স্কুলের সহশিক্ষক দিলিপ দোলাই বলেন, ‘‘ডিম, সবজি তো রয়েছেই। এক দিন একটু অন্য রকম হল। মুখে স্বাদ বদল এল। বড় ভাল লাগল ছেলেমেয়েদের খাওয়া দেখে। সবাই চেটেপুটে খেয়েছে।’’

এদিন দিঘা চক্রের তথা রামনগর-১ ব্লকের পদিমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মির্জাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২ জন পড়ুয়ার জন্য কেনা হয় দশ কেজি ইলিশ। দিঘার মোহনা থেকে ইলিশ কিনে নিয়ে আসা হয় ৩০০ টাকা দরে।

চেটেপুটে খাওয়ার পরে এক পড়ুয়ার কথায়, ‘‘ইলিশ মাছটা বেশ ভাল ছিল। সত্যি খুব মজা হয়েছে স্কুলে। এ রকম মজা যেন আবার হয়।’’

আরও পড়ুন:

Loading...

Comments

comments