TOP সোশ্যাল

অভিনব উদ্যোগ, বাবার শ্রাদ্ধে না খাইয়ে অর্থসাহায্য কিডনি রোগীকে

Loading...

দরিদ্র, মুমূর্ষু এক ব্যক্তির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে মৃত বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন শিক্ষক-পুত্র৷

বাবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়ার পিছনে খরচ না করে জমানো টাকা এক অসুস্থ ব্যক্তির চিকিত্সায় দিয়েছেন বলে জানান চণ্ডীতলা শিয়াখালা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রসেনজিত্ গোস্বামী৷ ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন মা বন্দনা৷ অসুস্থ অশোক রায় এই সহযোগিতায় আপ্লুত৷ প্রসেনজিতের দেওয়া টাকায় আপাতত কিছুদিন ছেলের চিকিত্সা চলবে বলে আশায় বুক বেঁধেছেন অশোকের মা মন্দিরাও৷ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিশিষ্টরা৷ শিক্ষক নৃসিংপ্রসাদ ভাদুড়ী বলেন , ‘শ্রাদ্ধ মানে শ্রদ্ধা৷ সেখানে দানের নানা মাধ্যম হতে পারে৷ এই শিক্ষক এক অসাধারণ কাজ করেছেন !’

চন্দননগরের কুন্ডুঘাট নিকাড়িপাড়ার বাসিন্দা বছর চল্লিশের অশোক টোটো চালাতেন৷ পুর নিগমের অর্থ সাহায্যে তৈরি ঘরে স্ত্রী , সন্তান ও মাকে নিয়ে কোনও রকমে দিন চলত একমাত্র রোজগেরে অশোকের৷ কিন্ত্ত বছরদুয়েক ধরে কিডনির অসুখে আক্রান্ত হয়ে তিনি শয্যাশায়ী৷ এ সবের মধ্যেই স্ত্রীয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়৷ এসএসকেএমে বেশ ক’বার ডায়ালিসিস হয় তাঁর৷ চিকিত্সকেরা জানান , কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া তিনি সুস্থ হবেন না৷ নয়তো ডায়ালিসিস চালাতে হবে৷ নিজের জমির একাংশ বিক্রি করে সেই টাকাতেই কিছুদিন চিকিত্সা চালান অশোক৷ কিন্ত্ত এ ভাবে কতদিন ? এমনই এক গভীর চিন্তার সময়ে ওই তরুণের বাল্যবন্ধু, চুঁচুড়া মগরা ব্লকের সহ -সভাপতি উজ্জ্বল আলি খানের কাছে অশোকের অসুস্থতার কথা জানতে পারেন প্রসেনজিত্৷ উজ্জ্বলের সঙ্গে তাঁর বাড়িতেও যান৷ অসহায় ওই তরুণ এবং তাঁর বাড়ির লোকের অবস্থা দেখে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রসেনজিত্৷

অশোকের মা মন্দিরাকে জানান , তাঁর সাধ্য খুব বেশি না হলেও বাবার শ্রাদ্ধের জন্য যেটুকু সঞ্চয় করে রেখেছিলেন , তা-ই তুলে দেবেন তাঁদের হাতে৷ চুঁচুড়ার ময়নাডাঙা এলাকার বাসিন্দা ওই শিক্ষকের বাবা প্রভাসকৃষ্ণ গোস্বামী এ মাসের গোড়ায় মারা যান৷ শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে কেবল পারলৌকিক কাজটুকু করে বাকি টাকাটা অশোকের চিকিত্সার জন্য দিয়ে দিয়েছেন প্রসেনজিত্৷ তাঁর কথায় , ‘সমাজের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চাইতেন বাবা৷ আমি বাবাকে দেখেই উদ্ধুদ্ধ হয়েছি৷ ’ ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন মা বন্দনা৷ আর অশোকের মা মন্দিরার কথায় , ‘মানবিকতার সম্পর্কে যে ভাবে প্রসেনজিত্ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন , তাতে তাঁকে দেবদূত বলে মনে হয়েছে৷ ’

সুত্র ঃ এইসময়

আরও পড়ুন

জেনে নিন নতুন বছরে কেমন হবে আপনার যৌনজীবন?

কলকাতায় ঘুড়ির মাঞ্জা সুতোয় গলা কাটল বালিকার৷

নতুন বছর থেকে সারারাত সরকারি বাস চলবে মহানগরে

একসময় মালয়ালম সিরিয়ালের নিয়মিত মুখ আজ রাস্তায় ধোসা বিক্রি করছেন!

Loading...

Comments

comments