TOP নিউজ

এবার দু’লক্ষ ভুয়ো সংস্থার অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ মোদি সরকারের

Loading...

কালো টাকা উদ্ধারে গত ৮ নভেম্বর পুরোনো পাঁচশ’ ও হাজার টাকার নোট বাতিলের পর এ বার ‘শেল ’ সংস্থাগুলি উত্খাতে নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ করফাঁকি দিতে অথবা কালো টাকা সাদা করতে এই ধরনের ‘শেল ’ বা খোলস সংস্থা তৈরি করা হয়৷ বাস্তবে এই ‘শেল ’ সংস্থাগুলির কোনও ব্যবসায়ীক কাজকর্ম থাকে না , অথবা থাকলেও সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেনের তুলনায় ওই ব্যবসার পরিমাণ খুবই সামান্য৷ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে , কোম্পানি আইনের ২৪৮ (৫ ) ধারার অধীন ২,০৯ ,০৩২ সংস্থার নাম রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজের নথি থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে , সংস্থাগুলির বর্তমান ডিরেক্টর এবং অথরাইজড সিগনেটরিজদেরও আর কোনও কর্তৃত্ব থাকবে না৷ ’

সংস্থাগুলির নামের তালিকাও কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে৷ এই সংস্থাগুলি হয় রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজে নথিভূক্ত হওয়ার এক বছর পরেও কোনও ব্যবসায়ীক কাজকর্ম শুরু করতে পারেনি অথবা দীর্ঘদিন সংস্থার কোনও আর্থিক হিসাব ও অন্য তথ্য দাখিল করেনি৷ শুধু নাম কেটে দেওয়াই নয় , ওই সংস্থাগুলির ডিরেক্টর এবং অন্য আধিকারিকরা সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে আর কোনও লেনদেন করতে পারবে না যতদিন না ন্যাশনাল কোম্পানিজ ল ট্রাইব্যুনালের সামনে বৈধতা প্রমাণ করে কোম্পানি আইনের ২৫২ ধারায় নিজেদের আইন মোতাবেক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারছে৷

এ দিন একাধিক টুইট বার্তায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে , ‘কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিষয়ক দন্তর ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন মারফত্ দেশের সমস্ত ব্যাঙ্কগুলির কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছে , তারা যেন ওই ২,০৯ ,০৩২ সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্ত লেনদেন বন্ধ করে দেয়৷ ’ ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন হল দেশের ব্যাঙ্কগুলির শীর্ষ সংগঠন৷ আরও বলা হয়েছে , কোন সংস্থা যদি তার আর্থিক লেনদেনের হিসাব অথবা বন্ধকী সম্পত্তির বিশদ বার্ষিক বিবরণ সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ -এর কাছে সময়ে দাখিল করতে না পারে তবে সেই সংস্থাগুলিকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হবে এবং ধরে নেওয়া হবে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা মানছে না৷ এর আগে , ‘শেল ’ সংস্থাগুলি নিয়ে শেয়ার বাজার নিয়ামক সেবিও পদক্ষেপ করেছে এবং কয়েকশ ’ সংস্থার শেয়ার কেনাবেচার উপর বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছে৷ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন , ‘তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকার জানতে পেরেছে ৩ লক্ষেরও বেশি ‘শেল ’ সংস্থা রয়েছে৷

গত এক বছরে কালো টাকা উদ্ধারে সরকার যে পদক্ষেপ করেছে তার ফলে ১.৭৫ লক্ষ এই ধরনের সংস্থা বন্ধ করা গিয়েছে৷ ’সম্প্রতি তাদের বার্ষিক রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে , ব্যাঙ্কগুলিতে সন্দেহজনক আমানত ও লেনদেনের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ছ’গুণ বেড়েছে৷ বিশেষ করে , বিমুদ্রাকরণের পর দু’মাসে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে জমা পড়া ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকার আমানত বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে আয়কর দন্তর৷ এ দিকে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় একটি প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে , বিমুদ্রাকরণের পর ব্যাঙ্কগুলিতে নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকা ৮০ .১৪ লক্ষ অ্যাকাউন্টে ফের লেনদেন শুরু হয়েছে৷ বারোটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক জানিয়েছে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৯ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৩১ ,৩০০ কোটি টাকারও বেশি জমা পড়েছে৷ রাজ্যগুলির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাঞ্জাব৷ সেখানে নিষ্ক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ৪৮৪৩ .৯১ কোটি টাকা৷ তারপরেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (৪১৬৭ .২৪ কোটি টাকা ), মহারাষ্ট্র , দিল্লি , গুজরাট , প্রভৃতি৷ উল্লেখ্য , পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ এই দুই রাজ্যেই বিধানসভা নির্বাচন হয় বিমুদ্রাকরণের ঠিক পরেই৷

ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক এবং আইডিবিআই ব্যাঙ্ক তাদের তথ্য দেয়নি৷ সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার বার্ষিক রিপোর্টে জানিয়েছে , বিমুদ্রাকরণের পর বাতিল নোটের ৯৯ শতাংশই ফিরে এসেছে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায়৷ অর্থাত্, কালো টাকার মালিকরা কোনও না কোনও ভাবে নিজেদের করফাঁকির টাকা ব্যাঙ্কে জমা করতে সফল হয়েছে৷ সেই কথা মাথায় রেখেই সরকার এ বার ব্যাঙ্ক আমানত ও বিভিন্ন নথি ঘেঁটে ‘সন্দেহজনক ’ আমানতের মালিকদের বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান শুরু করছে৷ বিমুদ্রাকরণের পর দু’মাসে ৮০ লক্ষ নিষ্ক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা ৩১ হাজার কোটি টাকা৷

আরও পড়ুন:

মাত্র ৮ টাকায় দু’মাস! জলের দরে এক গুচ্ছ রিচার্জ অফার!

কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে বন্ধ ঘরে রেখে লাগাতার ধর্ষণ!

Loading...

Comments

comments