TOP সোশ্যাল

লম্বা দৌড়ের ট্র্যাকে জীবনসুধার খোঁজ করলেন প্রবীণ দাস দম্পতি

Loading...

বড়দিনের ভোরে আলো শুষে নিচ্ছেন দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা৷ উত্তরপাড়ার গৌরী সিনেমার কাছে যখন তাঁরা স্টার্টিং লাইনে দাঁড়ালেন তখন সদ্য তরুণেরও চোখ কপালে৷ অল্প গা ঘামিয়ে শুরু হল প্রবীণ দম্পতির দৌড়৷ সেই দৌড় শেষ হল পাঁচ কিলোমিটার পেরিয়ে৷ যাত্রাপথের প্রতিটি ইঞ্চিতে ছাপ রয়ে গেল কেবল ক্রীড়াপ্রেম বা ফিটনেস নয় , প্রবল ইচ্ছাশক্তিরও৷

ভদ্রেশ্বরের রবীন্দ্রনাথ দাস ও মঞ্জু দাস৷ স্বামীর বয়স ৭৫ , স্ত্রীর ৬৭৷ দু’জনের পায়েই স্নিকার্স, ট্র্যাকস্যুট৷ তরুণদের করতালির ঝড়ের মধ্যেই শুরু হয়েছিল প্রবীণ-প্রবীণার দৌড়৷ গঙ্গা তীরের জিটি রোড ধরে তাঁরা যতক্ষণ দৌড়লেন, ততক্ষণ দু’পাশে দাঁড়ানো জনতা চেঁচিয়ে , হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাল তাঁদের৷ সোমবার সুমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শম্ভু দাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে এই পাঁচ কিমি ম্যারাথনের আয়োজন করেছিল রিষড়া স্পোর্টিং ক্লাব৷ মূল উদ্যোক্তা চিকিত্সক সমর বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমাজসেবী অঞ্জনা মৈত্র৷ সুমিত্রা ছিলেন সমরের স্ত্রী, শম্ভু শ্যালক৷ উত্তরপাড়ার গৌরী সিনেমা থেকে শুরু হয় দৌড়৷ শেষ হয় রিষড়া গার্লস স্কুলের কাছে৷ প্রতিযোগীদের উত্সাহ দিতে হাজির ছিলেন প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার শিশির ঘোষ ও প্রাক্তন বিচারক নারায়ণচন্দ্র চক্রবর্তী৷ প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১৫০৷ তার মধ্যে ২৫ জন মহিলা৷ সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী বলাগড়ের বারো বছরের সন্দীপ দাস৷ তবে এই দৌড়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও মঞ্জু৷

’৮০ সালে বিয়ে৷ সংসার সমুদ্রে সাঁতারের পাশাপাশি বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্রনাথ-মঞ্জু অংশ নিচ্ছেন প্রায় ত্রিশ বছর ধরে৷ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ব্রেথওয়েট -এর প্রাক্তন কর্মী রবীন্দ্রনাথ বলছিলেন, ‘এখনও আমি পুরোপুরি সুস্থ৷ না আছে প্রেশার , না আছে সুগার৷ ছোটোবেলা থেকেই মাঠে গিয়ে শরীরচর্চা করছি৷ বিয়ের পর আমার মাঠের টান দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠে মঞ্জু৷ আস্তে আস্তে মাঠ ভালোবেসে ফেলল ও৷ আমরা দু’জনে এখন একই ট্র্যাকে৷ আমাদের এক ছেলে এক মেয়ে৷ ওদের জন্মের পরও প্র্যাক্টিসে ছেদ পড়েনি৷’ এক সময় বেঙ্গালুরুতে জাতীয় স্তরে ৪০০ , ৮০০ , ১৫০০ মিটার দৌড়েও অংশ নিয়েছেন দু’জনে৷ বৃদ্ধর কথায় , ‘জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দৌড় প্রতিযোগিতার খবর পেলেই চলে যাই৷

মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ ছেলে ভালো চাকরি করে৷ কোনও পিছুটান নেই৷ ’ মঞ্জু বলেন , ‘মনের ইচ্ছাটাই বড়৷ প্রবীণ হলেও মনের দিক থেকে আমরা নবীন৷ আর প্রতিযোগিতায় কে প্রথম , কে দ্বিতীয় হল , সেটা নিয়েও মাথাব্যথা নেই৷ সুস্থ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবাইকে উত্সাহিত করি , নিজেরাও উত্সাহিত হই৷ স্বামীর সঙ্গে প্রায় তিন দশক ধরে দৌড়ে বেড়াচ্ছি৷ আমারও কোনও রোগ নেই৷ বরং মাঠ আঁকড়ে ধরে অনেক বেশি সুস্থ আছি আমরা৷ ’ দাস দম্পতিকে দেখে মুগ্ধ উদ্যোক্তা চিকিত্সক সমর ও সমাজসেবী অঞ্জনাও৷ সমর বলেন , ‘দুই প্রবীণ -প্রবীণা দেখিয়ে দিলেন , ইচ্ছাশক্তিই সব৷ তাঁদের এই বোধ নবীনদের কাছে প্রেরণা৷ ’ অঞ্জনা বলেন , ‘আমরা আপ্লুত৷ দিনটা আমাদের কাছে সত্যিকারের বড়দিন৷ ’ মার্কিন লং ডিসট্যান্স রানার স্তেফানি ব্রুসের কথা ছিল — ‘ইট ইজ নট জাস্ট আ রেস …৷ ইট’স জার্নি অফ সেল্ফ ডিসকভারি৷ ’ রবীন্দ্রনাথের মুখে সেই দর্শনেরই ভিন্ন রূপ৷ ‘খেলার মাঠ আর দৌড় ভালোবাসি৷ মাঠে -ঘাটে দৌড়তে দৌড়তেই যেন একদিন মরে যাই৷’ এই দৌড় যদি না শেষ হয় …৷

সুত্র ঃ এইসময়

আরও পড়ুন

কি করে বুঝবেন কোনও মহিলা চাইছেন আপনি তাঁর দিকে এগিয়ে যান? জেনে নিন

রণজি ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তুললেন এই পেসার

সুস্থ থাকতে সপ্তাহে কতবার বীর্যপাত করা উচিত? জেনে নিন

নতুন বছরে আপনার যৌন জীবন আরও মধুর করতে এই ছোটখাটো বিষয়গুলি মেনে চলুন

Loading...

Comments

comments