TOP নিউজ সোশ্যাল

আপনার কি বিরিয়ানি খুবই প্রিয়? মরা মুরগি কিনেই তৈরি হচ্ছে সস্তার বিরিয়ানি

Loading...

পাড়ায় পড়ায়, অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বিরিয়ানির দোকান৷ ৬০ -৭০ টাকা খরচ করলেই মিলছে সুগন্ধি বিরিয়ানি৷ মাঝেমধ্যেই হেঁসেলে ছুটি দিয়ে স্বল্পদামের সেই বিরিয়ানিই এখন অনেকের ডিনার টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে৷ কিন্ত্ত যদি শোনেন মরা মুরগি দিয়েই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু সেই বিরিয়ানি, তা হলে ? অনেকেরই মনে হতে পারে , মুরগি তো মারার পরেই বিক্রি হয়৷

তা হলে অবাক হওয়ার কী আছে ? কিন্ত্ত যদি শোনা যায় অসুখ বা অন্য কোনও কারণে মারা যাওয়া মুরগি ব্যবহার করা হচ্ছে বিরিয়ানিতে, তা হলে নিশ্চয়ই ভিরমি খাবেন৷

সম্প্রতি এমনই খবর পেয়েছেন রাজ্য এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (ইবি ) গোয়েন্দারা৷ তার ভিত্তিতে বাদুড়িয়া থানায় একটি মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে জেলা ইবি৷ একই সঙ্গে মরা মুরগি নিয়ে বেআইনি এই কারবার রুখতে অন্য জেলাগুলিকেও সর্তক করা হয়েছে ইবি -র সদর দন্তর থেকে৷ সূত্রের খবর , বসিরহাট মহকুমা , বাদুড়িয়া , মছলন্দপুর , স্বরূপনগর এলাকায় অসংখ্য পোলট্রি ফার্ম রয়েছে৷ কিন্ত্ত অতিরিক্ত গরম , অতিরিক্ত ঠান্ডা , অসুখ অথবা অন্য কোনও কারণে পোলট্রিগুলিতে মুরগির মড়ক লেগেই থাকে৷ এক গোয়েন্দা অফিসারের কথায় , ‘সম্প্রতি আমরা জানতে পারি ওই অঞ্চলগুলিতে মরা মুরগি কিনে বিভিন্ন জায়গায় চালান দেওয়ার কাজ করছে একটি সিন্ডিকেট৷ ’
কী ভাবে ?
সূত্রের দাবি , পোলট্রিগুলিতে যে মুরগি মারা যায় সেগুলো অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে কিনে নেয় চক্রের সদস্যরা৷ বাইকে এসে পোলট্রি থেকে সেই মরা মুরগি সংগ্রহ করে তারা৷ এর পর বাদুড়িয়ার চারটি জায়গায় আলাদা ভাবে সেই মুরগিগুলি ছাড়িয়ে ড্রেসিং করা হয়৷ তার পর বরফ ও ফরমালিন দিয়ে থার্মোকলের বাক্স ভরে ফেলা হয়৷

চক্রের অন্য সদস্যরা ছোট ছোট গাড়িতে এক সঙ্গে ২০ -২২টা বাক্স নিয়ে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় সেই মরা মুরগি পৌঁছে দেয়৷ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন , মূলত রাস্তার ধারে বিভিন্ন ফাস্টফুড সেন্টার , বিরিয়ানির ব্যবসায়ীদেরই ওই সব মরা মুরগি সরবরাহ করা হয়৷ সূত্র মারফত সেই খবর পাওয়ার পরেই গত ১৮ জুন বাদুড়িয়া অঞ্চলে হানা দেন ইবি -র এক ডিএসপি , দুই ইনস্পেক্টর -সহ গোয়েন্দাদের একটি দল৷ যদিও হাতেনাতে কাউকে গ্রেন্তার করা সম্ভব হয়নি৷ তার আগেই পালিয়ে যায় কারবারিরা৷ তবে যে জায়গাগুলিতে ড্রেসিং করে মরা মুরগি বাক্সবন্দি করার কাজ চলে , সেখান থেকে বেশ কিছু থার্মোকলের বাক্স -সহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা৷ বাদুড়িয়া থানায় অজ্ঞাত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন (কেস নং ৪৩৩ /২০১৭ ) জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক ইনস্পেক্টর৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭২ , ২৭৩ ও ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ যদিও এখনও কেউ গ্রেন্তার হয়নি৷ গোয়েন্দা সূত্রের দাবি , এক বার হানা দেওয়ার পর অনেকটাই সতর্ক হয়ে গিয়েছে চক্রের লোকেরা৷ ইবি -র এক কর্তার কথায় , ‘শুধু উত্তর ২৪ পরগনার ওই এলাকাই নয় , আমরা জানতে পেরেছি বর্ধমান , বীরভূমের মতো বেশ কিছু জেলায় এই ভাবে মরা মুরগি নিয়ে ব্যবসা চলছে৷ বেআইনি কারবার আটকাতে বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের সতর্ক করা হয়েছে৷ ’

মরা মুরগি শরীরের গেলে কী ক্ষতি হতে পারে ? মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরুণকুমার মজুমদার বলেন , ‘অনেক দিনের মরা মুরগি মানে তো জীবাণুর আখড়া৷ ফুড পয়জনিং , অর্থাত্ পেট খারাপের জন্য তা যথেষ্ট৷ ’ এসএসকেএমের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান চিকিত্সক মনোজ চৌধুরী বলেন , ‘জীবাণুমুক্ত করার জন্য ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অন্তত ৩০ মিনিট ফোটানো দরকার৷ তাই বাড়িতে বানিয়ে খেলে খুব ভয় নেই৷ কিন্ত্ত রাস্তার হোটেল এত কিছুর ধার ধারে না৷ তাই ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কা থেকেই যায়৷ সবচেয়ে বিপজ্জনক হল , ওই মুরগি যদি পিত্জা , প্যাটিস ইত্যাদির মতো বেকারির খাবারে ব্যবহার করা হয়৷ কারণ সেই মুরগি হাফ -বেক্ড হয় , পুরোমাত্রায় থেকে যায় জীবাণু৷’

এই সময় -এর মতএই ঘটনা থেকে শিক্ষা হল , স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারে তলানিতে ঠেকলে মরা মুরগি নিয়েও ব্যবসা করা যায়৷ সাধারণ মানুষ সস্তায় পেট ভরাতে মারণব্যাধি ডেকে আনছেন৷ পোলট্রি ফার্ম, মরা মুরগির জোগানদার এবং ফাস্ট ফুড ও বিরিয়ানির দোকান -সহ যারা এই দুষ্টচক্রের সঙ্গে জড়িত , তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷

গতকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় খবরগুলো:

প্ল্যাটফর্মে অন্য মহিলার সঙ্গে প্রেম, হাতেনাতে ধরে স্বামীকে ধোলাই স্ত্রীর

এবার দামাল হল দিঘা, একদম অন্য রূপ নিল! জানলায় চোখ পর্যটকদের

আপনি কি জানেন, ফ্রি Wi-Fi পেলে ভারতীয়রা ছেলে-মেয়েরা কী দেখেন?

সৌন্দর্য বাড়াতে সেক্স কেনও জরুরি? জেনে নিন

মাসে গুনে গুনে মোট ১১ বার যৌন মিলন করুন, আর ম্যাজিক নিজের চোখেই দেখুন!

অতিরিক্ত হস্তমৈথুন ছাড়তে সঙ্গী থাকুক এই টিপসগুলি

স্তনের আকার ছোট হয়ে কেন জানেন?

Loading...

Comments

comments