TOP সোশ্যাল

বর্ষবরণের রাতে বাইপাস ও শহরতলির পানশালাগুলিতে এবার বিশেষ নজর দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

Loading...

বছরের শেষ শনিবার দুপুর গড়াতেই পার্ক স্ট্রিটের পানশালায় ভিড় জমাতে শুরু করেছে উৎসবমুখর তরুণ-তরুণীরা। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যায় নাইটক্লাবগুলিতে যে তিলধারণের জায়গা থাকবে না তা আগাম জানিয়ে দিয়েছেন ওই সমস্ত বিনোদন ক্ষেত্রের ম্যানেজাররাও। কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের ডান্স ফ্লোরেও দুপুরের পর থেকে ডিজে’দের পারফরম্যান্স নজর কাড়তে শুরু করেছে। পানশালায় নানা ধরনের ককটেল এবং রকমারি খাবারের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী।

কিন্তু এরই মধ্যে বাড়তি সক্রিয়তা নিয়ে দুপুর থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েছেন কলকাতা পুলিশের দক্ষ অফিসাররা। প্রস্তুত, ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ বাহিনী। সঙ্গে সাদা পোশাকের কয়েকশো মহিলা পুলিশকর্মীও। পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, পার্টি থেকে মদ্যপ অবস্থায় বেরিয়ে বেসামাল হাতে স্টিয়ারিং ধরলেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। মদ্যপ চালকদের গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এমনকী পার্টিতে অতিরিক্ত মদ্যপান করে যদি কোনও মহিলা টলমল অবস্থায় গাড়ি চালান তবে তাঁরও লক আপে ঠাঁই হবে। এর সঙ্গে মাদক ও যৌন চক্র রুখতে তৎপর হয়েছে লালবাজার। বিশেষ করে বাইপাস ও শহরতলির পানশালাগুলিতে এবার বিশেষ নজর দিচ্ছে পুলিশ।

বর্ষবরণে মেতে উঠতে প্রস্তুত কলকাতা। একদিকে যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা ঠিক তেমনই বছর শেষের নিউ ইয়ার ব্যাশে মেতে উঠতে উষ্ণতা বাড়ছে শহরের শিরায় শিরায়। নৈশক্লাব, বর্ষবরণের জন্য শহর ও শহরতলির রিসর্ট ও পার্কে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন। ঘরোয়া পার্টির আড়ালে রেভ পার্টিতেও এবার পুলিশ থেকে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর নজরে নিষিদ্ধ ‘মাদক’। বর্ষবরণের উষ্ণতা যা কোনওভাবেই মাদকতার ‘গ্লোবাল ওর্য়ামিং’-এ পরিণত না হয় সেদিকেই নজর সবার।

শহরের নৈশক্লাবগুলিতে এদিন দুপুর গড়াতেই শুরু হয়েছে ‘লেডিজ আওয়ার’, ‘মিক্স রিমিক্স’-এর মতো বিশেষ ব্যবস্থা। যাতে গা ভাসিয়েছে নয়া প্রজন্ম। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী যে সব তরুণ-তরুণীরা বেশি রাত অবধি বাইরে থাকতে পারে না তারাই এই সব পাব-ক্লাবগুলিতে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে পুলিশের নজরদারি থাকছে সর্বত্র। অন্যদিকে বছর শেষের ‘স্যাটারডে নাইট’-এর দর উঠছে চড়চড়িয়ে। যে ক্লাবের পাস গত সপ্তাহতে মিলেছে মাত্র হাজার দেড়েক টাকায় তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এক ধাক্কায়। রবিবার ছবিটা টাকা ওড়ার শামিল হবে শহরের ক্লাবে ঢোকার জন্য। এবার মাদক, নৈশজীবনের পাশাপাশি শহরজুড়ে যৌনতার জাল তৈরি হতে চলেছে তাও চিন্তায় রেখেছে পুলিশ প্রশাসনকে।

পুলিশের নজরে থাকছে হোটেল, রিসর্ট থেকে শহরের বহুতলের ফাঁকা ফ্ল্যাটও। সফিস্টিকেটেড মধুচক্রও বসতে চলছে বলে খবর শহরে। যেখানে অনলাইন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিলামে উঠছে যৌবনভরা লাস্যময়ীরা। গোয়েন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের উদ্দাম যৌনতার ‘ট্রেন্ড’ও শহরে নতুন। তাই সার্বিক নজরদারির পাশাপাশি শহরের প্রতিটি থানাকে এলাকায় বাড়তি নজরদারির কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, শহরজুড়ে উঠতি মডেলদের ক্লায়েন্ট ধরার কাজে লাগাচ্ছে একটি চক্র। এরই পাশাপাশি শহরের পানশালায় গায়িকার হওয়ার আড়ালেও চলছে অবাধ দেহ ব্যবসা। সেন্ট্রাল অ্যভিনিউয়ের একাধিক পানশালায় এই দেহব্যবসার কারবার চলছে রমরমিয়ে। বর্ষবরণের আগে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা দিলেই গোটা রাতের সঙ্গিনী পেয়ে যাচ্ছেন যে কেউ। মদ্যপান, হুক্কাবার থেকে হেরোইন, কোকেন থেকে হালফিলের হাসিস। প্রতিবছরই নয়া মাদকের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে যুব সমাজ। কখনও ট্যাবলেট আকারে, কখনও পাউডার হয়ে আবার কখনও তরল মাধ্যমে শিরায় শিরায় ছড়াচ্ছে শহরের মাদকতা।

সুত্র ঃ সংবাদ প্রতিদিন

আরও পড়ুন

জানেন কি মদ্যপান শু‌ধু আপনার শরীরকেই নয় সামাজিক সত্তাকেও নষ্ট করছে?

রতিক্রিয়ার আগে আপনার সঙ্গীকে এই পাঁচ প্রশ্ন করতে একদম ভুলবেন না যেন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের বডি শেমিংয়ের শিকার হলেন অভিনেত্রী এবং সঞ্চালিকা মন্দিরা বেদী

পাকিস্তানকে দেওয়া বিপুল আর্থিক সাহায্য আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

Loading...

Comments

comments