TOP নিউজ

ব্লু হোয়েলের ১৬তম পর্বে পৌঁছেও বাঁচল রাজ্যের মেয়ে, জানুন তাঁর সেই অভিজ্ঞতা

Loading...

বুধবার স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন, কয়েকদিন ধরে ওই দুই ছাত্রী ‘ব্লু হোয়েল’ খেলায় মেতেছে।

ঘরের পাশে নীল তিমির হাতছানি!

মারণখেলা ‘ব্লু হোয়েল’। দেশের বিভিন্ন শহরে একাধিক কিশোর-কিশোরী এর শিকার। সেই মারণখেলারই ১৬তম এবং ১৪তম পর্বে পৌঁছে গিয়েছিল বারাসতের দুই নাবালিকা স্কুল ছাত্রী। সহপাঠীদের তৎপরতায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ওই দুই নাবালিকার বাড়ি বারাসতের নতুনপল্লি এবং কালিকাপুরে। তারা বারাসতেরই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত একটি গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

‌বুধবার স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন, কয়েকদিন ধরে ওই দুই ছাত্রী ‘ব্লু হোয়েল’ খেলায় মেতেছে। এরপরই শিক্ষিকারা বারাসত থানায় খবর দেন। টানা চার ঘণ্টা কাউন্সেলিংয়ের পর দুই ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ওই স্কুলে গিয়েছিল পুলিশ। ছাত্রীদের কাউন্সেলিং কীভাবে হবে তা নিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষিকাদের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান তথা স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি সুনীল মুখোপাধ্যায়।
ঘটনা জানাজানি হল কীভাবে?

পুলিশ এবং স্কুল সূত্রের খবর, বুধবার সহপাঠীদের সঙ্গে গল্পের সময় এক ছাত্রী ‘ব্লু হোয়েল’ খেলার কথা বলে ফেলেছিল। তার হাতে কাটা দাগ-ও দেখতে পায় সহপাঠীরা। তখনই ‘ব্লু হোয়েল’ খেলায় অংশ নেওয়া আরেক ছাত্রীর নাম সে সহপাঠীদের জানিয়েছিল। এরপরই স্কুলে কানাঘুষো শুরু হয়। খবর পৌঁছয় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কানেও। তিনি ওই দুই ছাত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে কথা বলেন। তারা প্রধান শিক্ষিকার কাছে ‘ব্লু হোয়েল’ খেলার কথা স্বীকার করে। এরপর খবর দেওয়া হয় তাদের বাবা-মাকে। বারাসত থানায়ও জানানো হয়। কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক, প্রধান শিক্ষিকা এবং বাবা-মায়ের সামনেই দুই ছাত্রী ‘ব্লু হোয়েল’ খেলার কথা স্বীকার করে। এরপর চার পুলিশ আধিকারিক ওই দু’জনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন।

সূত্রের খবর, পুলিশকে ওই দুই নাবালিকা জানায়, তারা মোবাইলে ‘ব্লু হোয়েল’ গেম ‘ইনস্টল’ করেছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, একজন ছাত্রী ‘ব্লু হোয়েলে’র ১৪তম পর্বে পৌঁছে গিয়েছিল। আরেকজন পৌঁছেছিল ১৬তম পর্বে। দ্বিতীয় ছাত্রী-ই হাত কেটে ছিল। বাড়ির কেউ যাতে বুঝতে না-পারে, সে জন্য ওই ছাত্রী ঘরে ফুল স্লিভ কুর্তি বা শার্ট পরতো। কিন্তু স্কুলের পোশাক হাফ স্লিভ হওয়ায় সহপাঠীরা তার হাতে কাটা দাগ দেখে ফেলে। তারপরই জানাজানি হয়।

বারাসত থানায় কোনও সাইবার বিশেষজ্ঞ নেই। ঘটনাটি জেনে বারাসত থানা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সাইবার থানা থেকে এক সাব ইনস্পেক্টর ওই স্কুলে যান।

সুনীল বলেন, ‘‘জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় আমরা স্কুলের সকল ছাত্রীর জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করব। অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। সচেতন হতে হবে অভিভাবকদেরও। স্কুলে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা থাকে ছাত্রীরা। বাকি সময় তারা বাড়িতে থাকে। মোবাইল নিয়ে স্কুলে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই স্কুলে ব্লু হোয়েল খেলার সুযোগ নেই।’’

Loading...

Comments

comments