TOP নিউজ

চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে মোবাইল-চোরকে ধরল বাংলার এই বীরাঙ্গনা

Loading...

চোরও বোধকরি ঠাহর করতে পারেনি তার এই অবস্থা হবে। এক তরুণীর অসম সাহসের কাছে এভাবে নাস্তানাবুদ হয়ে তার বুঝি জাত-কুল দুই-ই গেল। গারদে গিয়েও হয়তো সেই কন্যার মুখটিই তার চোখের সামনে ভাসছে।

ঠিক কী হয়েছিল তা একটু খোলসা করা যাক। রবিবার সকালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আক্রা রেলস্টেশনের ঘটনা। তার ঠিক পরের স্টেশন নুঙ্গিতে নামবেন বলে ট্রেনের লেডিস কম্পার্টমেন্টের গেটের ধারে দাঁড়িয়েছিলেন মহেশতলার বাসিন্দা বছর ১৯-এর মেয়েটি। নাম কোমল পরিদা। ভবানীপুর এডুকেশন সোশাইটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ট্রেন আক্রা স্টেশন ছাড়তেই ছোঁ মেরে তাঁর হাত থেকে স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে প্ল্যাটফর্মের উপর ঝাঁপ দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে ছিনতাইবাজ।

এক মুহূর্ত দেরি করেননি কোমল। চলন্ত ট্রেন থেকে তিনিও ঝাঁপ দেন প্ল্যাটফর্মে। প্ল্যাটফর্মের কানায় ঝুলতে ঝুলতে চেপে ধরলেন ছিনতাইবাজের শার্ট। মাথায় আঘাত লাগে কোমলের। রক্ত ঝরতে থাকে। তবু তিনি ছিনতাইবাজকে হাতছাড়া করেননি। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে তবে নিরস্ত হয়েছেন। উদ্ধার করেছেন তাঁর স্মার্টফোন।

ততক্ষণে ফোনটির স্ক্রিন ভেঙে গেলেও তা সচল ছিল। এক যাত্রী কোমলের মাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের ফোনে ফোন করেন। তবে বাবা-মা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছন তখন কোমলের জ্ঞান নেই। তাঁকে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। তাঁর ক্ষতস্থানে সেলাই পড়ে। হয় সিটি স্ক্যান। দেখা যায়, শরীরের অভ্যন্তরে তখনও সামান্য রক্তক্ষরণ হয়ে চলেছে। তাই দেরি না-করে কোমলকে মল্লিকবাজারে ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়ান্সে নিয়ে আসা হয়। তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

কোমলের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, রবীন্দ্র সরোবরের কাছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের টিউশন পড়ে টালিগঞ্জ থেকে বজবজ লোকালে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন কোমল। তাঁর বাবা একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করেন। পুলিশ ছিনতাইবাজকে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম শামিম মোল্লা(২০)।

আরও পড়ুন:

মোবাইল চুরির ডিপ্লোমা! সিলেবাস- মোবাইল চুরি, পকেটমারি, স্ন্যাচিং! কোর্স ফি মাত্র ১৬ হাজার

পৃথিবী ছাড়াও অন্য গ্রহে রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব। দাবি ভারতীয় বৈজ্ঞানিকের

Loading...

Comments

comments