শুরু হচ্ছে সানির নতুন শো, ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড উইথ সানি লিওনি’।

Loading...

সাংবাদিক বৈঠকে একজন জিগ্যেস করেছিলেন, ‘আপনার নামের সঙ্গে সানি পাজি’র নামের মিল রয়েছে বলেই কি অ্যাডভেঞ্চার শো করার সাহস পেলেন’? ‘মেরে পাস ঢাই কিলো কা হাত হ্যায়,’ জবাব দিলেন সানি লিওনি। ১২ জানুয়ারি ডিসকভারির নতুন চ্যানেল জিৎ’এ শুরু হচ্ছে সানির নতুন শো, ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড উইথ সানি লিওনি’। মুম্বইয়ে, বৈঠক শেষে বসলেন ‘ওবেলা’র সঙ্গে আড্ডায়। বোঝা গেল, কেন কথাটা বলেছিলেন!

প্রোমো দেখে তো মনে হচ্ছে, বেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছেন…।
বেশ মজাতেই কাজটা করেছি। আর একটা-দু’টো এপিসোডও তো নয়, অনেকগুলো এপিসোড রয়েছে শো’এ। সেট’ও অনেকগুলো। বেয়ার গ্রিলসের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ বলে কথা। তবে আমি আমার মতো করে অ্যাডভেঞ্চারে সামিল হয়েছি।

শো না হয় হল, নিজের জীবনে কতটা অ্যাডভেঞ্চারাস আপনি?
(একটু ভেবে) আরে, আমি প্লেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছি! আর কী চাই! তবে সেবারও মজাই হয়েছিল। এ বছর জিম করবেটে শ্যুটিং করেছি একটা শো’য়ের। সেটাও কিন্তু কম রোমাঞ্চকর ছিল না! প্রতিদিন যুদ্ধ! কখনও এই পোকা, কখনও সেই পোকার সঙ্গে! ব্যাটল উইথ বাগ্স! অ্যায়সে স্মল কিড়ে। (দুই আঙুলে আকারটা বুঝিয়ে দিয়ে) যতটা ভাবছেন, ততটাও ছোট নয়!  বেশ বড়! এরপরও আছে…!

আরও!
(হেসে) হ্যাঁ, আছে তো! প্রায় প্রত্যেকদিন রাতে বাথরুমে গিয়ে দেখতাম, খান দু’য়েক টিকটিকি ঘোরাফেরা করছে। চেঁচিয়ে ফিরে আসতাম। তারপর লোকজন সেগুলো তাড়াতে গিয়ে দেখত, পুরো বেপাত্তা (জোরে হাসি)!

জঙ্গলে সারভাইভ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ…।
তা তো বটেই! আমাদের তো ছোট থেকে সারভাইভ্যাল স্কিল শিখিয়ে দেওয়া হয় না। কাজেই অজানা জায়গায় গিয়ে সারভাইভ করা আমাদের পক্ষে মুশকিল হয়। তখন আমাদের ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল আমরা জানি না। একটা সামান্য ভুলের জন্য মৃত্যুও হতে পারে।
ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামলান?
টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ঠিকমতো ট্যাকল করতে পারলেই চ্যালেঞ্জে তুমি জিতে গেলে! (জোরে হেসে) ওটাই তো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!  প্রত্যেকটা দিনই তো আলাদা রকমের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। সামটাইমস অ্যামেজিং থিংগস হ্যাপেন। সামটাইমস ডোন’ট। কিন্তু সবকিছুর সঙ্গেই তোমাকে নিজের মতো করে লড়তে হবে।

আপনার তো সোশ্যাল মিডিয়ার এত ফলোয়ার। নিজে কতটা সময় কাটান ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রামে?
সেটা ডিপেন্ড করছে। এই কয়েকদিন আগেই কেপ টাউনে শ্যুটিং করছিলাম। প্রত্যেকদিনই কাজ পড়ে যাচ্ছিল। তখন একদমই সময় পাইনি কোনও রকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকার। তবে চেষ্টা করি, দিনের সামান্যতম সময় হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটানোর। এই যখন সাক্ষাৎকারের পর গাড়িতে বাড়ি ফিরব, বোর হয়ে যাব তো যেতে যেতে। তখন কী করব আর বলুন! দেশে এবং সারা পৃথিবীতে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেটা দেখে নাও তখন (হাসি)।
আপনি রিয়্যালিটি শো দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। সেখানে ফিরতে চান না?
এটাও নির্ভর করছে অনেক কিছুর উপর। আসলে রিয়্যালিটি শো সিচুয়েশন অনুযায়ী তৈরি করা হয়। সেগুলো সত্যি নয়। তাই ওই শো’এ যাওয়ার খুব একটা ইচ্ছে যে আছে, তা নয়। শো’গুলো ইমোশনালি অনেকটা প্রভাব ফেলে প্রতিযোগীদের উপর।

মাতৃত্ব কেমন উপভোগ করছেন?
নিশা (সানির দত্তক-কন্যা) এখন কী করছে জানতে চান? (হাতঘড়িটা দেখে) দাঁড়ান বলে দিচ্ছি। নির্ঘাত ঘুমোচ্ছে।
ইট’স অলমোস্ট দ্যাট টাইম। শি ইজ গ্রেট। ও খুব ভাল আছে আমাদের কাছে। স্কুলে যায়। যদি ওর সঙ্গে দেখা করেন, বুঝতে পারবেন না ও কোথা থেকে এসেছে। ও কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। শি ইজ দ্য হ্যাপিয়েস্ট চাইল্ড ইউ উড এভার মিট (হাসি)। এখানে যদি ও এখন থাকত, আপনাকে ব্যস্ত করে তুলত। ওর সবাইকে এনটারটেন করার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। দেখেই বলবেন, ‘ওহ! সো কিউট’!

বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে ফেললেন এ দেশে। অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে আপনাকে। সেগুলো কাটিয়েও উঠেছেন…।
আমার কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট যদি ফলো করে থাকেন, তাহলে তার কিছুটা আন্দাজ পেয়ে যাবেন নিশ্চয়ই। পজিটিভ থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আই ফিল ব্লেস্ড। এত কাজ পাচ্ছি। প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও কাজের মধ্যে আছি। দিনের শেষে এগুলোই ম্যাটার করে। তুমি কাজের মধ্যে আছো, তুমি সুখী, তোমার পরিবার নিশ্চিন্ত। এগুলো ঠিক থাকলে যে কোনও সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা ঠিকই বার করে নিতে পারি আমরা। লোকে তোমার সম্পর্কে কী মনে করল, তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনও মানে নেই। এটা করলে তো সেই লোকগুলোকে জিতিয়ে দেওয়া হয়, যারা তোমাকে কষ্ট দিতে চায়। আমি সেটা কেন হতে দেব বলুন তো?

এ দেশের মানুষ আপনাকে এভাবে গ্রহণ করবেন ভেবেছিলেন কখনও?
(উত্তেজিত) এই জায়গাটা অর্জন করতে পেরেছি ওঁদের জন্যই। ওঁরাই তো আমাকে কাজ করতে উৎসাহিত করেছেন। ওই একটা কারণেই আমার টিম, আমার কোম্পানি কাজ করে চলেছে। আমি কে, সেটা জেনেও যদি এত মানুষ আমাকে গ্রহণ না করতেন, আমার ভুলগুলো সত্ত্বেও যদি তাঁরা আমাকে মেনে না নিতেন, যে সম্মানটা আমি অর্জন করতে পেরেছি তা কোনওদিন পারতাম না। মিডিয়া আমাকে বার বার নীচে নামানোর চেষ্টা করেছে, একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ আমাকে ছোট করার চেষ্টা করেছে। আমার ফ্যানরা আমাকে সাপোর্ট করেছেন বলেই না চলে যেতে পারিনি। নইলে তো কবেই ব্যাগ গুছিয়ে ফিরে যাওয়া উচিত ছিল।

কী ধরনের কাজ আপনি করতে চান ভবিষ্যতে?
(হাসি) আমি নিজেকে এনটারটেনার মনে করি। প্রতিদিন কাজ করে যেতে পারলেই আমি খুশি।

প্রায়োরিটি জিগ্যেস করা হলে কাকে এগিয়ে রাখবেন? মেয়ে, স্বামী, না কাজ?
সব সময় প্রায়োরিটির কী দরকার বলুন তো? একটার সঙ্গে আরেকটা নিয়েই বরং চলি না। এভরিথিং ইজ আ প্রায়োরিটি।

নিউ ইয়ারে বেঙ্গালুরুতে আপনার পারফর্ম করা নিয়ে কিছু মানুষ যে আচরণ করল, তাতে আপনার খারাপ লাগেনি?
দেখুন, কেউ আমার ওখানে যাওয়ায় আঘাত পান সেটা চাইনি। প্রায়োরিটির কথা বলছিলেন না? মানুষের নিরাপদ থাকাটা বরং আমার কাছে প্রায়োরিটি বলতে পারেন।

 এই সমস্ত ঘটনা ঘটলে কখনও মনে হয় না, সব ছেড়েছুড়ে চলে যাই?
হয় তো! মনে হয়, যদি পিৎ‌জা খাওয়াটা ছেড়ে দিতে পারতাম (জোরে হাসি)।

সূত্র -এবেলা

আরও পড়ুন

বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে অণ্ডকোষ ফেটে গেল এই বৃদ্ধের।

প্রকাশ্যে সিগারেট খেলেই জরিমানা দিতে হচ্ছে দিল্লি পুলিসকে

বিএসএফ ট্রেনিং সেন্টারে বিয়ে হয় রাহুল-বিজেতার

জয়নাব কাণ্ডের অন্য ভাবে প্রতিবাদ জানালেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালক।

Loading...

Comments

comments