‘আমি গরিব’! হ্যাঁ, এমনটাই লিখতে হচ্ছে দৌসায় বিপিএল-বাড়িতে

Loading...

সরকারি খাদ্যবণ্টন প্রকল্পে কারচুপি রুখতে বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারগুলির বাড়িতে‘আমি গরিব, সরকারি এনএফএসএ প্রকল্পে রেশন পাই’লিখে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন৷ এ ভাবে মানুষকে দাগিয়ে দেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার৷ যাঁদের বাড়িতে এ কথা লিখে দেওয়া হচ্ছে, তাঁরাও ক্ষুব্ধ৷ বিজেপি-র বসুন্ধরা রাজে সরকার দরিদ্র মানুষের সঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি করছে বলে সরব হয়েছে বিরোধীদের একাংশ৷ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ায় কারও বাড়ির বাইরে এ রকম লিখে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলেও অনেকের অভিযোগ৷ জেলা পরিষদের দাবি, বিপিএল নয়, এমন অনেক পরিবার এই তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং সরকারি প্রকল্পের সুযোগ নিচ্ছে৷ এই দুর্নীতি ঠেকাতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷

দৌসার সিকরাই এবং বান্দিকুইয়ের বাসিন্দাদের প্রায় ৭০ শতাংশ, সংখ্যায় ৫০ হাজারেরও বেশি বাড়িকে এ ভাবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এক গ্রামবাসী বলেন,‘মাত্র ১০ কিলো গমের জন্য এ ভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে আমাদের৷ লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে৷ অনেকে জানতে চাইছেন, বাড়ির বাইরে এই লেখা কেন?’কারও কারও বাড়িতে একাধিকবার এ কথা লেখা হয়েছে৷

সরকারি প্রকল্পের আওতাধীন পরিবারগুলির বাড়িতে এ রকম তকমা লাগানোর কারণ কী? দৌসা জেলা পরিষদের সিইও সুরেন্দ্র সিং বলেন, ‘বিপিএল তালিকাভুক্ত এবং জাতীয় খাদ্যসুরক্ষা আইনের আওতায় থাকা পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকারের তরফে এই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এসেছে আমাদের কাছে৷’দৌসার অতিরিক্ত কালেক্টর কে সি শর্মা অবশ্য জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের তরফে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি৷ তাঁর বক্তব্য,‘খাদ্য নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে জেলা পরিষদ এ রকম নির্দেশ জারি করে থাকতে পারে৷ বিষয়টি দেখব৷’ রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী রাজেন্দ্র সিং রাঠোর আবার এই উদ্যোগের দায় চাপিয়েছে পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের উপরে৷ তাঁর অভিযোগ, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোতের আমলেই এই ব্যবস্থা শুরু হয় আর এখন তিনি এ নিয়ে রাজনীতি করছেন৷’

রাজস্থানে এই ব্যবস্থা নতুন নয়৷ ভিলওয়ারা জেলা প্রশাসন আগেই বিপিএল পরিবারের বাড়িতে হলুদ দাগ দিয়ে প্রকল্পের আওতাধীন ব্যক্তির নাম ও আইডেন্টিফিকেশন নম্বর লেখার রেওয়াজ চালু করেছে৷ বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশে ২০১২-তেও সরকারি খাদ্যপ্রকল্পের আওতাধীন পরিবারগুলির বাড়িতে এ ভাবে‘আমি গরিব’লিখে দেওয়া হয়৷

যাঁদের বাড়ি দেগে দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা এই ব্যবস্থায় যারপরনাই অস্বস্তিতে৷ এক গ্রামবাসী বলেন,‘বাড়ির গায়ে ওই লেখা সাঁটতে দিলে ৭৫০ টাকা দেওয়া হবে বলে আমাদের জানিয়েছে৷ কিন্ত্ত আমাদের অনেকেই এই পোস্টার সাঁটার অনুমতি দিইনি৷ কিন্ত্ত কেউ শোনেনি৷ এ ভাবে সরকার আমাদের নিয়ে মস্করা করছে৷’এখানেই শেষ নয়৷ পোস্টার সাঁটা হলেও অনেক মানুষ রেশনের খাদ্যশস্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ৷

এহেন আচরণের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন অনেকে৷ কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারি একে‘অসুস্থ মানসিকতার রসিকতা’বলে চিহ্নিত করেছেন৷ বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন‘খাদ্যসুরক্ষা আইনে কাউকে খাদ্যশস্য দেওয়া হলে সেটা তাঁদের আইনি অধিকারের মধ্যে পড়ে৷ সরকার এ ভাবে কারও প্রতি দয়া করছে না৷ বাড়ির বাইরে পোস্টার সাঁটায় আসলে কেন্দ্র-রাজ্যে বিজেপি সরকারের গরিব-বিরোধী মনোভাবই স্পষ্ট হয়েছে৷’স্বরাজ অভিযান পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব টুইট করে বলেন, ‘এ নিয়ে আর কী বলব? এ ভাবে গরীবদের নিয়ে মস্করা বা তাঁদের অপমান করা কি কোনও সরকারকেই শোভা দেয়?’

সমাজতত্ত্ববিদ ও মনোস্তাত্ত্বিকদেরও আশঙ্কা, এতে সমাজ ও শ্রেণি বিভাজনের বিষ আরও ছড়িয়ে পড়বে৷ দৌসায় যাঁদের বাড়িতে পোস্টার সাঁটা হয়েছে, তাঁরা মূলত সংরক্ষিত শ্রেণির মানুষ৷

Loading...

Comments

comments